ইসলামের মৌলিক পাঁচ স্তম্ভ কী কী
-
আপলোড সময় :
৩০-০৪-২০২৬ ০২:২১:১১ অপরাহ্ন
-
আপডেট সময় :
৩০-০৪-২০২৬ ০২:২১:১১ অপরাহ্ন
ছবি: সংগৃহীত
ইসলাম ধর্মের মূল ভিত্তি পাঁচটি-- ঈমান, নামাজ, জাকাত, রোজা ও হজ। এই পাঁচ বিষয়ে জ্ঞান অর্জন করা এবং সে অনুযায়ী আমল করা প্রতিটি মুসলমানের ওপর ফরজ দায়িত্ব। একজন মুসলমানের জন্য এই পাঁচ স্তম্ভের কোনও একটিও অস্বীকারের সুযোগ নেই। অনথ্যায় তাকে মুসলিম হিসেবে গণ্য করা হবে না।
ঈমান: ঈমান শব্দের অর্থ বিশ্বাস। প্রতিটি মুসলমানকে বিশ্বাস করতে হয় মহান আল্লাহ একমাত্র উপাস্য এবং মুহাম্মদ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম মহান আল্লাহর প্রেরিত রসুল।
ঈমান হচ্ছে- আপনি বিশ্বাস স্থাপন করবেন আল্লাহ তায়ালার প্রতি, তাঁর ফেরেশতাদের প্রতি, আসমানি কিতাবগুলোর প্রতি, আল্লাহর নবী-রাসুলদের প্রতি, কেয়ামত দিবসের প্রতি এবং তকদিরের ভালো ও মন্দের প্রতি। এই হলো ঈমান।’ (বুখারি: ৫০)
নামাজ: ঈমান আনার পর মুসলমানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত হচ্ছে নামাজ। প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানকে প্রতিদিন পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করতে হয়। ভোরে ফজরের দুই রাকাত, দুপুরে জোহরের চার রাকাত, বিকেলে আসরের চার রাকাত, সন্ধ্যায় মাগরিবের তিন রাকাত ও রাতে এশার চার রাকাত- এই সতেরো রাকাত নামাজ পড়া ফরজ। এ ছাড়া ওয়াজিব, সুন্নত, নফল নামাজ রয়েছে। সেগুলোও নিয়মিত আদায় করা উচিত। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘নিশ্চয়ই নির্ধারিত সময়ে নামাজ আদায় করা মুমিনদের জন্য ফরজ করা হয়েছে।’ (সুরা নিসা : ১০৩)
জাকাত: জাকাত শব্দের অর্থ পরিশুদ্ধি ও প্রবৃদ্ধি। জাকাতের মাধ্যমে মুসলমানদের সম্পদ পরিশুদ্ধ হয় এবং বরকত অবতীর্ণ হয়। জাকাত অস্বীকার করা কুফুরি। কারও কাছে সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ বা সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপা থাকলে এবং তা এক বছর পূর্ণ হলে জাকাত ফরজ হয়।
ঈমানের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও অপরিহার্য ইবাদত হলো নামাজ ও জাকাত। পবিত্র কোরআনে যত জায়গায় নামাজের আদেশ দেয়া হয়েছে, পাশাপাশি শব্দে জাকাতের আদেশও দেয়া হয়েছে। মহান আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সালাত আদায় করো এবং জাকাত প্রদান করো। তোমরা যে উত্তম কাজ নিজেদের জন্য আগে পাঠাবে তা আল্লাহর কাছে পাবে। নিশ্চয়ই তোমরা যা করো আল্লাহ তা দেখছেন।’ (সুরা বাকারা, আয়াত : ১১০)
রোজা: রোজার আরবি হলো সওম, যার অর্থ বিরত থাকা। শরিয়তের পরিভাষায় যাবতীয় পানাহার এবং স্ত্রী সঙ্গম থেকে বিরত থাকার নাম রোজা। ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত পুরো দিন খাবার থেকে বিরত থাকতে হয়।
পবিত্র কোরআনে রোজার বিধান এভাবে দেয়া হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হয়েছে, যেরূপ তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর ফরজ করা হয়েছিল, যাতে তোমরা তাকওয়া অর্জন করতে পার।’ (সুরা বাকারা : ১৮৩)
রমজানে এক মাস রোজা পালন করতে হয় প্রত্যেক মুসলমানকে। কেউ সফর কিংবা অসুস্থতার কারণে রোজা রাখতে না পারলে পরে কাজা করতে হবে।
হজ: হজের অর্থ ইচ্ছা করা ও সফর বা ভ্রমণ করা। ইসলামি পরিভাষায় হজ হলো নির্দিষ্ট সময়ে নির্ধারিত স্থানে বিশেষ কিছু কাজ সম্পাদন করা। আর্থিক ও শারীরিকভাবে সামর্থ্যবান প্রতিটি পুরুষ-নারীর ওপর হজ ফরজ। পবিত্র কোরআনে বর্ণিত হয়েছে, ‘আল্লাহর তরফ থেকে সেসব মানুষের জন্য হজ ফরজ করে দেয়া হয়েছে, যারা তা আদায়ের সামর্থ্য রাখে।’ (সুরা আল ইমরান : ৯৭)
হজের নির্দিষ্ট সময় হলো ‘আশহুরুল হুরুম’ বা হারাম মাসগুলো তথা শাওয়াল, জিলকদ ও জিলহজ, বিশেষত ৮ জিলহজ থেকে ১২ জিলহজ পর্যন্ত পাঁচ দিন। হজের নির্ধারিত স্থান হলো আরবের মক্কা নগরীর কাবাগৃহ, সাফা-মারওয়া, মিনা, আরাফা, মুজদালিফা ইত্যাদি। হজের বিশেষ আমল বা কর্মকাল হলো ইহরাম, তাওয়াফ ও সাঈ, উকুফে আরাফা, উকুফে মুজদালিফা, উকুফে মিনা, দম ও কোরবানি, হলক ও কসর। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘প্রকৃত হজের পুরস্কার বেহেশত ছাড়া অন্য কিছুই হতে পারে না।’ (বুখারি : ১৭৭৩)
নিউজটি আপডেট করেছেন :
[email protected]
কমেন্ট বক্স